Skip to content

বাংলাদেশ থেকে বিদেশি স্কলারশিপ ও ইন্টার্নশিপ খোঁজার উপায়

Sufian 8 min read
Table of Contents15
  1. 01কেন বেশিরভাগ শিক্ষার্থী সঠিক সুযোগ খুঁজে পান না
  2. 02বিদেশি স্কলারশিপ খোঁজার জন্য যেসব সোর্স আসলে কাজে দেয়
  3. ১. সরাসরি সরকারি স্কলারশিপ প্রোগ্রামগুলো
  4. ২. স্কলারশিপ অ্যাগ্রিগেটর ওয়েবসাইট
  5. ৩. দূতাবাস ও হাই কমিশনের ওয়েবসাইট
  6. ৪. বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ফান্ডিং পেজ
  7. 03অনলাইন ইন্টার্নশিপ খোঁজার জন্য কম আলোচিত কিন্তু কার্যকর সোর্স
  8. ৫. LinkedIn – শুধু প্রোফাইল না, সঠিক ব্যবহার জানা জরুরি
  9. ৬. Handshake – একটু শর্তসাপেক্ষ কিন্তু কার্যকর
  10. ৭. AIESEC – বাংলাদেশেই লোকাল কমিটি আছে
  11. ৮. Internshala ও Idealist – কম আলোচিত কিন্তু কাজে দেয় এমন দুটো নাম
  12. 04আবেদনের আগে প্রস্তুতি: যা অনেকে এড়িয়ে যান
  13. 05আবেদনের সময় যে সতর্কতাগুলো মাথায় রাখবেন
  14. 06একটা সহজ টাইমলাইন যা অনুসরণ করতে পারেন
  15. 07সচরাচর জিজ্ঞাসিত কিছু প্রশ্ন

রাত জেগে Facebook গ্রুপে “স্কলারশিপ পেতে চাই” লিখে পোস্ট দিয়েছেন। কমেন্টে কয়েকটা টেলিগ্রাম চ্যানেলের লিংক পেয়েছেন, জয়েন করেছেন, কিন্তু দুই সপ্তাহ পর দেখলেন সেখানে হয় পুরনো তথ্য শেয়ার হচ্ছে, নয়তো এমন সব “গ্যারান্টিড স্কলারশিপ” এর বিজ্ঞাপন আসছে যেগুলোতে আগে টাকা জমা দিতে বলা হয়। আবার গুগলে “remote internship for Bangladeshi students” লিখে সার্চ দিলে এমন সব সাইট সামনে আসে যেগুলোর বেশিরভাগই স্প্যাম বা মেয়াদ উত্তীর্ণ পোস্ট।

এই সমস্যাটা প্রায় প্রতিটা বাংলাদেশি শিক্ষার্থী বা তরুণ পেশাজীবীর জীবনে অন্তত একবার হয়েছে। সমস্যা তথ্যের অভাব না, বরং সঠিক সোর্স আর ভুয়া সোর্সের মধ্যে পার্থক্য করতে না পারা। আজকের এই আর্টিকেলে একদম গোছানোভাবে বলব—কোন কোন ওয়েবসাইট বা প্ল্যাটফর্ম সত্যিই কাজে দেয়, কীভাবে সেগুলো ব্যবহার করবেন, এবং আবেদনের সময় কোন ভুলগুলো এড়িয়ে চলা উচিত।

কেন বেশিরভাগ শিক্ষার্থী সঠিক সুযোগ খুঁজে পান না

এই আলোচনায় ঢোকার আগে একটা জিনিস পরিষ্কার হওয়া দরকার। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সমস্যা হয় তিনটা কারণে:

প্রথমত, মানুষ শুধু Facebook গ্রুপ বা ভাইরাল পোস্টের উপর নির্ভর করেন, যেখানে তথ্য যাচাই ছাড়াই কপি-পেস্ট হতে থাকে। দ্বিতীয়ত, অনেকে সরাসরি অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে না গিয়ে থার্ড পার্টি ব্লগের উপর ভরসা করেন, যেখানে ডেডলাইন বা শর্ত পুরনো থাকতে পারে। তৃতীয়ত, আবেদনের সময় প্রোফাইল বা রেজ্যুমে যথেষ্ট কাস্টমাইজ না করে সবখানে একই জেনেরিক তথ্য পাঠানো হয়, যার ফলে রেসপন্স রেট কমে যায়।

নিচের সোর্সগুলো এই তিনটা সমস্যার সমাধান করার জন্যই বেছে নেওয়া হয়েছে—এগুলো হয় সরাসরি অফিসিয়াল, নয়তো এমন প্ল্যাটফর্ম যেখানে লিস্টিং যাচাই করা থাকে।

বিদেশি স্কলারশিপ খোঁজার জন্য যেসব সোর্স আসলে কাজে দেয়

১. সরাসরি সরকারি স্কলারশিপ প্রোগ্রামগুলো

কোনো এজেন্সি বা মধ্যস্থতাকারী ছাড়া, সরাসরি যে দেশের সরকার স্কলারশিপ দেয় তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে আবেদন করাটাই সবচেয়ে নিরাপদ এবং বিশ্বাসযোগ্য পথ। কারণ এখানে কোনো মধ্যস্থতাকারী ফি নেই, এবং তথ্য সবসময় হালনাগাদ থাকে। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়মিত খোলা থাকা কয়েকটা বড় প্রোগ্রাম:

  • DAAD (জার্মানি) — মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ে উন্নয়নশীল দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট স্কলারশিপ প্রোগ্রাম আছে। জার্মান পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে এমনিতেই টিউশন ফি খুব কম বা নেই বললেই চলে, তাই DAAD স্কলারশিপ পেলে মূলত থাকা-খাওয়ার খরচটাই কভার হয়ে যায়।
  • Chevening (যুক্তরাজ্য) — এক বছরের মাস্টার্স প্রোগ্রামের জন্য পূর্ণ ফান্ডিং দেয়, টিউশন ফি, থাকা-খাওয়া, এমনকি ভ্রমণ খরচও কভার করে। প্রতি বছর আগস্ট-সেপ্টেম্বরের দিকে আবেদন খোলে এবং নভেম্বরের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়, তাই ডেডলাইন মিস করা চলবে না।
  • Fulbright / EducationUSA — আমেরিকায় পড়াশোনার জন্য সবচেয়ে বড় সরকারি স্কলারশিপ প্রোগ্রাম। ঢাকায় EducationUSA-এর নিজস্ব সেন্টার আছে যেখানে বিনামূল্যে কাউন্সেলিং সহায়তা পাওয়া যায়—অনেকেই জানেন না যে এই সার্ভিসটা একদম ফ্রি।
  • Australia Awards, Commonwealth Scholarships, MEXT (জাপান), Erasmus Mundus (ইউরোপ) — এগুলোও উন্নয়নশীল দেশের শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেয় এবং প্রতিটার নিজস্ব ওয়েবসাইটে বছরের নির্দিষ্ট সময়ে আবেদন খোলে।

এই প্রোগ্রামগুলোর নিজস্ব ওয়েবসাইটে সরাসরি গিয়ে ডেডলাইন চেক করার অভ্যাস করুন। থার্ড পার্টি পেজ থেকে তথ্য নিলে সবসময় অফিসিয়াল সোর্সে গিয়ে একবার যাচাই করে নিন।

২. স্কলারশিপ অ্যাগ্রিগেটর ওয়েবসাইট

একেকটা দেশের একেকটা স্কলারশিপ খুঁজে বের করা কঠিন কাজ, তাই এমন কিছু সাইট আছে যারা সারা বিশ্বের স্কলারশিপ এক জায়গায় জড়ো করে রাখে এবং নিয়মিত আপডেট করে:

  • Scholars4Dev.com — উন্নয়নশীল দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্দিষ্টভাবে সাজানো স্কলারশিপ লিস্ট, আন্ডারগ্র্যাজুয়েট থেকে পিএইচডি পর্যন্ত সব লেভেল কভার করে।
  • ScholarshipTab.com — দেশ, লেভেল বা বিষয় অনুযায়ী ফিল্টার করে খোঁজা যায়, এবং নতুন প্রোগ্রাম যোগ হলে নিয়মিত আপডেট হয়।
  • Bold.org — এখানে ছোট ছোট (৫০০ থেকে ১০ হাজার ডলার পর্যন্ত) স্কলারশিপও অনেক আছে, যেগুলোর আবেদন প্রক্রিয়া তুলনামূলক সহজ এবং প্রতিযোগিতা কম—বড় স্কলারশিপ না পেলে এগুলো দিয়ে খরচের একটা অংশ ম্যানেজ করা যায়।

এই সাইটগুলোতে সপ্তাহে অন্তত একবার ঢুঁ মারার অভ্যাস করলে ডেডলাইন মিস হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যায়। চাইলে একটা গুগল ক্যালেন্ডার বা নোটে প্রতিটা স্কলারশিপের ডেডলাইন লিখে রাখুন, যাতে শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়ো করতে না হয়।

৩. দূতাবাস ও হাই কমিশনের ওয়েবসাইট

অনেকেই এই সোর্সটা এড়িয়ে যান, কিন্তু ঢাকায় থাকা বিভিন্ন দেশের দূতাবাস ও হাই কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রায়ই সেই দেশের সরকার-অনুমোদিত স্কলারশিপের তথ্য সবার আগে প্রকাশ হয়। জার্মান, ফরাসি, জাপানি বা ব্রিটিশ হাই কমিশনের ওয়েবসাইটের “Education” বা “Scholarships” সেকশন মাঝে মাঝে চেক করলে অনেক সময় এমন সুযোগ চোখে পড়ে যা এখনো ভাইরাল হয়নি—মানে প্রতিযোগিতাও তুলনামূলক কম।

৪. বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ফান্ডিং পেজ

সরকারি স্কলারশিপের বাইরেও, বিশ্বের বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব “Scholarships for International Students” পেজ থাকে। এখানে দেওয়া টিউশন ওয়েভার বা ডিপার্টমেন্টাল ফান্ডিং সাধারণত জাতীয় পর্যায়ের স্কলারশিপের চেয়ে কম আলোচিত হয়, কারণ এগুলো নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটেই থাকে, কোনো অ্যাগ্রিগেটরে আসে না। যে বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করার পরিকল্পনা করছেন, তার “Admissions” পেজের পাশাপাশি “Financial Aid” বা “Funding” পেজটাও আলাদাভাবে দেখে নিন।

অনলাইন ইন্টার্নশিপ খোঁজার জন্য কম আলোচিত কিন্তু কার্যকর সোর্স

৫. LinkedIn – শুধু প্রোফাইল না, সঠিক ব্যবহার জানা জরুরি

বেশিরভাগ শিক্ষার্থী LinkedIn-এ শুধু একটা প্রোফাইল খুলে রাখেন এবং মাঝে মাঝে পোস্টে লাইক দেন, কিন্তু এটাকে ঠিকভাবে ব্যবহার করলে রিমোট ইন্টার্নশিপ খোঁজার সবচেয়ে শক্তিশালী টুলগুলোর একটা হয়ে উঠতে পারে। কয়েকটা প্র্যাকটিক্যাল কৌশল:

  • Jobs সেকশনে “Remote” ফিল্টার এবং “Internship” experience level সিলেক্ট করে সার্চ করুন, এবং সেই সার্চের জন্য Job Alert অন করে রাখুন যাতে নতুন পোস্ট হওয়া মাত্র ইমেইল বা নোটিফিকেশন পান।
  • যে কোম্পানিতে আগ্রহী, সেখানকার HR বা টিম লিডকে সরাসরি একটা ছোট, নির্দিষ্ট মেসেজ পাঠান। শুধু “কোনো opening আছে কিনা” জিজ্ঞেস করার বদলে নিজের একটা নির্দিষ্ট স্কিল বা প্রজেক্টের কথা এক-দুই লাইনে উল্লেখ করে যোগাযোগ করলে রেসপন্স পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।
  • #hiring, #remoteinternship, #internshipopportunity এর মতো হ্যাশট্যাগ ফলো করলে অনেক ছোট স্টার্টআপের পোস্ট চোখে পড়ে, যেগুলো বড় জব বোর্ডে কখনো আসেই না।
  • প্রোফাইলের “Open to Work” ফিচারে শুধু রিক্রুটারদের জন্য ভিজিবল রেখে “Internship” টাইটেল যোগ করে দিন—এতে রিক্রুটাররা নিজেরাই খুঁজে পেতে পারেন।

৬. Handshake – একটু শর্তসাপেক্ষ কিন্তু কার্যকর

Handshake মূলত বিশ্বব্যাপী সাত লাখের বেশি এমপ্লয়ারের সাথে চৌদ্দশোর বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্টনারশিপের ভিত্তিতে কাজ করে, এবং এখানে রেজিস্টার করতে সাধারণত পার্টনার ইউনিভার্সিটির .edu ইমেইল লাগে। তাই বাংলাদেশ থেকে সরাসরি সবার জন্য এটা খোলা নয়। তবে যদি—

  • আপনি কোনো আন্তর্জাতিক অনলাইন ডিগ্রি বা এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে ভর্তি থাকেন যেটার Handshake পার্টনারশিপ আছে, অথবা
  • আপনার পরিচিত কেউ পার্টনার ইউনিভার্সিটিতে পড়ে এবং referral দিতে পারে—

তাহলে এটা চেষ্টা করে দেখার মতো, কারণ এখানকার প্রতিটা লিস্টিং স্কুল কর্তৃপক্ষ যাচাই করে বলে ভুয়া পোস্টের সংখ্যা তুলনামূলক অনেক কম।

৭. AIESEC – বাংলাদেশেই লোকাল কমিটি আছে

AIESEC একটা যুব-পরিচালিত আন্তর্জাতিক সংগঠন যা ষাটের বেশি দেশে ইন্টার্নশিপ ও ভলান্টিয়ার প্রোগ্রামের সুযোগ দেয়, এবং সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো—ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এর লোকাল কমিটি সরাসরি সক্রিয়। এখানে আবেদন প্রক্রিয়া, ইন্টারভিউ, এমনকি ভিসা-সংক্রান্ত সহায়তা পর্যন্ত স্থানীয় টিমের সরাসরি সাপোর্ট পাওয়া যায়, যা অন্য কোনো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে সহজে মেলে না। “Global Talent” প্রোগ্রামের মাধ্যমে পেইড ইন্টার্নশিপ এবং “Global Volunteer” প্রোগ্রামের মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদি প্রজেক্ট—দুই ধরনের সুযোগই এখানে পাওয়া যায়।

৮. Internshala ও Idealist – কম আলোচিত কিন্তু কাজে দেয় এমন দুটো নাম

  • Internshala মূলত ভারতকেন্দ্রিক হলেও এখানে অনেক রিমোট ইন্টার্নশিপ পোস্ট হয় যেগুলোতে দক্ষিণ এশিয়ার যেকোনো দেশের শিক্ষার্থী আবেদন করতে পারে। আবেদনের আগে প্রতিটা পোস্টে “location” ও “eligibility” অংশ ভালোভাবে পড়ে নেওয়া জরুরি, কারণ কিছু পোস্ট শুধু ভারতীয় শিক্ষার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট থাকে।
  • Idealist.org মূলত নন-প্রফিট ও এনজিও সেক্টরের জন্য, যেখানে রিমোট ইন্টার্নশিপ ও ফেলোশিপের প্রচুর লিস্টিং থাকে। যারা সোশ্যাল ইমপ্যাক্ট, ডেভেলপমেন্ট বা মানবাধিকার সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়তে চান, তাদের জন্য এটা প্রায় অজানা কিন্তু সোনার খনির মতো একটা সোর্স।

আবেদনের আগে প্রস্তুতি: যা অনেকে এড়িয়ে যান

শুধু সঠিক ওয়েবসাইট জানলেই হয় না, আবেদনের প্রস্তুতিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কয়েকটা বিষয় যেগুলো আবেদন শক্তিশালী করে:

  • Statement of Purpose (SOP) — জেনেরিক টেমপ্লেট কপি না করে, প্রতিটা আবেদনের জন্য আলাদাভাবে লিখুন কেন এই নির্দিষ্ট প্রোগ্রাম বা কোম্পানিতে আগ্রহী, এবং সেটা আপনার লক্ষ্যের সাথে কীভাবে যুক্ত।
  • রেফারেন্স বা সুপারিশপত্র — যাদের কাছ থেকে চাইবেন, তাদের অন্তত দুই-তিন সপ্তাহ আগে জানিয়ে রাখুন এবং নিজের সিভি বা প্রজেক্টের তথ্য শেয়ার করুন, যাতে তারা নির্দিষ্টভাবে লিখতে পারেন।
  • ভাষা দক্ষতার সনদ — বেশিরভাগ ইংরেজিভাষী প্রোগ্রামে IELTS বা TOEFL স্কোর লাগে। স্কোরের চাহিদা প্রোগ্রামভেদে ভিন্ন হয়, তাই আবেদনের আগে নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের requirement পেজ থেকেই সঠিক তথ্য যাচাই করে নেওয়া ভালো।
  • CV/Resume ফরম্যাট — আন্তর্জাতিক আবেদনে সাধারণত ছবি ছাড়া, এক পৃষ্ঠার সংক্ষিপ্ত রেজ্যুমে প্রত্যাশা করা হয়, যেখানে অর্জন সংখ্যা দিয়ে (যেমন “৩টা প্রজেক্ট সম্পন্ন করেছি” এর বদলে নির্দিষ্ট impact উল্লেখ করা) প্রকাশ করা ভালো।

আবেদনের সময় যে সতর্কতাগুলো মাথায় রাখবেন

  • কোনো ইন্টার্নশিপ বা স্কলারশিপ যদি “গ্যারান্টিড” বলে টাকা চায়, সেটা এড়িয়ে চলুন। বৈধ প্রোগ্রাম কখনো আবেদন ফি হিসেবে বড় অঙ্কের টাকা দাবি করে না।
  • প্রতিটা প্ল্যাটফর্মে প্রোফাইল ও রেজ্যুমে নিয়মিত আপডেট রাখুন—পুরনো তথ্য থাকলে ভালো সুযোগ মিস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • একসাথে অনেক জায়গায় জেনেরিক মেসেজ না পাঠিয়ে, প্রতিটা আবেদনে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা প্রোগ্রামের নাম উল্লেখ করে ছোট, কাস্টমাইজড মেসেজ পাঠানো বেশি কার্যকর।
  • অফিসিয়াল ইমেইল ডোমেইন যাচাই করুন—কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়ে যোগাযোগ এলেও ইমেইল যদি সাধারণ জিমেইল বা ইয়াহু থেকে আসে, সেটা সন্দেহজনক।

একটা সহজ টাইমলাইন যা অনুসরণ করতে পারেন

  • ৩-৪ মাস আগে: কোন প্রোগ্রাম বা কোম্পানিতে আবেদন করবেন তার লিস্ট তৈরি করুন, প্রতিটার ডেডলাইন নোট করুন।
  • ২-৩ মাস আগে: IELTS/TOEFL, SOP, রেফারেন্স লেটার—এই প্রস্তুতিগুলো শুরু করুন।
  • ১ মাস আগে: সব ডকুমেন্ট চূড়ান্ত করে অন্তত এক সপ্তাহ হাতে রেখে আবেদন জমা দিন, শেষ দিনের জন্য অপেক্ষা করবেন না।
  • আবেদনের পর: প্রতিটা প্রোগ্রামের ইমেইল নিয়মিত চেক করুন, অনেক সময় ইন্টারভিউয়ের নোটিশ স্প্যাম ফোল্ডারে চলে যায়।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত কিছু প্রশ্ন

Handshake কি বাংলাদেশ থেকে সরাসরি ব্যবহার করা যায়? সরাসরি নয়—রেজিস্ট্রেশনের জন্য সাধারণত পার্টনার ইউনিভার্সিটির .edu ইমেইল প্রয়োজন হয়। কোনো আন্তর্জাতিক প্রোগ্রামে ভর্তি থাকলে বা পার্টনার ইউনিভার্সিটির কারো referral পেলে ব্যবহার করা সম্ভব।

স্কলারশিপ আবেদনের জন্য IELTS-এ কত স্কোর লাগে? এটা প্রোগ্রাম ও দেশভেদে ভিন্ন হয়, তাই প্রতিটা প্রোগ্রামের নির্দিষ্ট requirement পেজ থেকেই সঠিক তথ্য যাচাই করে নেওয়া উচিত।

AIESEC-এ যোগ দিতে কি টাকা লাগে? সদস্যপদ বা প্রোগ্রামভেদে খরচের কাঠামো ভিন্ন হতে পারে, তাই আবেদনের আগে বাংলাদেশের লোকাল কমিটির সাথে সরাসরি যোগাযোগ করে বিস্তারিত জেনে নেওয়া ভালো।

একসাথে কয়টা স্কলারশিপে আবেদন করা উচিত? সংখ্যার চেয়ে মান বেশি জরুরি। জেনেরিকভাবে দশটা জায়গায় আবেদন করার চেয়ে, তিন-চারটা প্রোগ্রামে ভালোভাবে কাস্টমাইজড আবেদন জমা দেওয়া বেশি কার্যকর।

বিদেশি স্কলারশিপ বা রিমোট ইন্টার্নশিপ পাওয়ার পথটা রাতারাতি হয় না, কিন্তু সঠিক সোর্স জানা থাকলে সময় আর পরিশ্রম দুটোই অনেক কমে যায়। আজকের লিস্ট থেকে একটা বা দুটো প্ল্যাটফর্ম বেছে নিয়ে এই সপ্তাহেই প্রোফাইল বানিয়ে ফেলুন, ডেডলাইনগুলো নোট করে রাখুন, এবং প্রতিটা আবেদনে সময় দিয়ে কাস্টমাইজেশন করুন। শুরুটা যত আগে হবে, ফলাফল তত আগে আসবে।

About The Author

Sufian

Sufian is a content writer and digital publisher who specializes in technology, education, careers, and online business. He is committed to delivering accurate, well-researched, and easy-to-understand content that provides real value to readers.

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *